Tue. Jun 18th, 2024

জতুগৃহে জীবন বাজি রেখেছে অর্ণব…. সঙ্গে টিবিএইচ বাংলা

By Desk Team Aug 23, 2021

১) তোমার আগামী সিনেমা কি কি রিলিজ হচ্ছে সেইটা নিয়ে একটু যদি বলো

উঃ পরের সিনেমা বলতে যদি সব ঠিকঠাক থাকে, করোনার থাবা যদি একটু একটু করে কমতে শুরু করে তাহলে হয়তো পুজোতে “বাজি” আসছে, “কাটাকুটি” বলে একটা ওয়েব সিরিজ ক্লিকে আসছে, “ইস্কাবন” বলে একটি ছবি আসছে যেটাতে সৌরভ দাস অভিনয় করছে জঙ্গল মহল নিয়ে একটি সিনেমা, “জতুগৃহ” আসছে আর “ডঃ বক্সী”র শুটিং শুরু হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি দুটোর পরিচালকই সপ্তাশ্ব বসু


২) এতদিন ধরে যে রিমেক সিনেমা হয়ে এসেছে, কোথাও মনে হয়না স্ট্যান্ডার্ড পড়ে গেছে।

উঃ আমি রিমেক ছবির মান যদি পড়ে যায় এটা ভাবি তাহলে এটা কী বুক ঠুকে বলতে পারি যে বাংলায় অরিজিনাল কন্টেন্টে এমন কিছু সিনেমা হচ্ছে যেটার মান খুব উঁচু, হয়তো সেটাও সেরকম হচ্ছে না, দিনের শেষে ব্যবসার দিকটাও দেখতে হয়, আজকে কবির সিং রিমেক করে ৩০০ কোটি টাকা কামিয়ে নিলো যেদিন একটা বাংলা রিমেক আবার ভালো কালেকশন দেবে সেদিন সব প্রডিউসার আবার রিমেক করতেই মন দেবেন, আসলে সময় ঠিক করে কার মান কী!

: ৩) অনেক পরিচালকেরা আছে যারা নিজের গল্প নিয়ে কাজ করে কিন্তু অন্যের গল্পকে সুযোগ দেয় না, কিন্তু বাস্তবে সেই পরিচালকদের গল্প মানুষরা আর গ্রহণ করছে না সেটা তুমি কিভাবে দেখছো

উঃ আমার ব্যাট ছিলো, আমি আউট হয়ে গেলে ওখানেই খেলা শেষ হয়ে যেত, কারণ আমি ব্যাট নিয়ে ঘরে চলে আসতাম। কিন্তু এটা হয়তো কোনোদিন ভেবেই দেখিনি আমি হয়তো ব্যাটটা ধরতেই পারিনা বা আমার থেকে হয়তো আরও ভালো ব্যাটসম্যান আছে যাকে ব্যাট দিয়ে আমি নন স্ট্রাইকার এন্ডে থাকলে হয়তো নট আউট থেকেই ম্যাচ জিতে যেতাম। এবার এটা যতদিন না আমি বুঝবো ততদিন কেউ কিস্যু করতে পারবে না। আমাকে বুঝতে হবে এটাই হয়তো আসল বা আমার বাবা যে আমাকে ব্যাট কিনে দিয়েছে সে যেন ব্যাটটা ভেঙে গেলে আর কিনে না দেয়

৪) তামিল তেলুগু সিনেমাতে অনেক ইউনিটি আছে, ওখানকার পরিচালকেরা বিভিন্ন পরিচালকদের সিনেমা নিয়ে টুইট করে রিটুইট করে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে কিন্তু বাংলার পরিচালকেরা সেটা করে না কথাও মনে হয়না ইউনিটিটা দরকার আমাদের

উঃ আমি তো আর পরিচালক না, আমি এটা বলতে পারবো না ঠিক, হয়তো একদিন তাঁরাও বুঝবেন যে সাপোর্ট করলে কোনো ক্ষতি নেই সেদিন করবেন।

৫) যেভাবে তোমার গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে, এটা দেখে অনেক রাইটাররা উৎসাহ পাবে, তুমি তাদেরকে কিভাবে মোটিভেট করতে চাও।

উঃ নিজের কাজটা করে যাও, লিখে যাও, কিছু না ভেবেই লেখো, চেষ্টা করলে হবেই সাথে ভাগ্য একটা বড় ফ্যাক্টর, আমিও 3 বছর কিছু না ভেবেই বিভিন্ন গ্রূপে লিখে গেছি, লাইক দেখলে শেয়ার হলে খুশি হতাম, তারপর দেখলাম আমার লেখার কয়েকজন ভক্ত হলো, এটাই অনেক ছিলো, ধীরে ধীরে পড়ে যা যা হয়েছে সেগুলো সবই হয়তো ভগবান আর কাছের মানুষগুলোর ভালোবাসার ফল

৬) শুনেছিলাম হিন্দিতে কাজ করার কথা চলছে সেটা কত দূর।

উঃ একটা ওয়েব সিরিজের কথা হয়েছে, হিন্দীর কাজ একটু হলেও সময় লাগে এই সিচুয়েশনে সবই পিছিয়ে যাচ্ছে, ওটা হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে, গন্তব্যে পৌঁছে গেলেই এনাউন্সমেন্ট হবে, তখন তো সবাই জানতে পারবে।

৭) এই মুহূর্তে কোন কোন পরিচালকেরা তোমার সাথে কাজ করার জন্য অফার করেছে।

উঃ না না সেরকম ব্যাপার নয়, আমি অনেকের কাছেই নিজে থেকে গিয়ে গল্প শুনিয়েছি, শুধু সপ্তাশ্ব বাসুর সাথে আমার ইকুয়েশন একটু অন্যরকম আমরা ৫০ টা গল্প নিয়ে প্ল্যান করি, চেষ্টা করি একসাথে সবসময় কাজ করার, এছাড়াও অনেকেই যোগাযোগ করেন তাঁরা গল্প পছন্দ হলে কাজ করার কথাও বলেন, কিছু কাজ হয় কিছু কাজ হয়না। আমি বিভিন্ন পরিচালকের সাথে কাজ করেছি আগেও করবো সৃজিতদার সাথে কাজ করার খুব ইচ্ছে আছে, যদি কোনো গল্প তাঁর পছন্দের মতন লিখতে পারি তাহলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ওঁর সাথে একবার কাজ করতে চাইবো

৮) অনেক রাইটাররা আছে তারা পরবর্তী সময় পরিচালক হয়ে গেছে, তোমার কি এরকম ভাবনা চিন্তা আছে।

উঃ না না আমি গল্প আর স্ক্রিপ্ট নিয়ে খুশি আছি, যদি কোনোদিন পরিচালক হওয়ার সুযোগ আসে তাহলে জিৎ দার সাথে কাজ করার খুব ইচ্ছে আছে কারণ এই একজন অভিনেতার আমি বড় ভক্ত তাঁর প্রথম ছবি থেকে তাই যেদিন এরকম কিছু প্ল্যান করবো ইচ্ছে আছে তাকেই শোনাবো প্রথম আর যেহেতু তাঁর সাথে লেখার জন্য একটু সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে তাই জিৎ দা যেরকম সিনেমা করতে চায় সেরকমই একটা কিছু নিয়ে কাজ করবো। যদিও এটা একটা জাস্ট মনের ইচ্ছে আর কিছুই না।

৯) হিন্দি বা বাংলা সিনেমার রিলিজ হলে, এখনকার দর্শক হিন্দি সিনেমার প্রতি আগ্রহ দেখায় বাংলা সিনেমার প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখায় না সেটা কি আস্তে আস্তে চেঞ্জ হচ্ছে।

উঃ না না হিন্দী সিনেমার প্রতি এই ভালোবাসা চিরকাল ছিলো, আছে আর থাকবে, এটা চেঞ্জ হতে পারেনা, ভালো বাংলা সিনেমা তৈরি হলেও হিন্দি সিনেমা তাঁর নিজের জায়গায় ঠিক একরকম থাকবে এটাও জানি।

১০) মহাভারতের জতুগৃহের সঙ্গে জতুগৃহের গল্পের কি কোনভাবে মিল বা সাদৃশ্য রয়েছে


উঃ হ্যাঁ, অল্প তো আছেই, কিন্তু সেটা বললেই সিনেমা হলে এমনিই কেউ যায়না আরও লোকে যাবেনা

১১)আপনার এযাবত লেখা সবচেয়ে ভালো গল্প একজন পাঠক হিসেবে কোনটা আপনার মনে হয়। তার নিয়ে ছবি হয়েছে এটা বাধ্যতামূলক নয়।


উঃ আমার একটা গল্প আছে যেটা একটি ছেলের তাঁর দিদার ইচ্ছেপূরন নিয়ে, সেটা খুব পছন্দের আর সেটা নিয়ে সিনেমা করার প্ল্যান ও আছে খুব শীঘ্রই


১২)এমন কোনো একটি গল্প আছে যেটা নিয়ে যদি ভবিষ্যতে কোনদিন পরিচালক হন তাহলে সেই গল্পটি নিয়ে ছবি বানাবেন?


উঃ না না সেরকম কিছু না, যখন পরিচালক হওয়ার সত্যিই ইচ্ছে হবে তখন না হয় বসে আরেকটা নতুন গল্প লিখবো


১৩)আপনার চোখে এই মুহূর্তে বাংলার সেরা পরিচালক কারা?

উঃ কৌশিক গাঙ্গুলী এবং সৃজিত মুখার্জী

১৪) যদি পরিণীতা না হতো এবং যদি আপনি ছবিতে সুযোগ না পেতেন তাহলে কি এখনো আগের মতো গল্প লিখে যেতেন?


উঃ হ্যাঁ, প্রথম কথা পরিনীতা হওয়ার পরেও লোকে চিনতো না, গিয়ে গিয়ে বলতে হতো আমি লিখেছি, তারপরে লোকে বসিয়ে বলতো একটা গল্প শোনাও সেটা শোনার পরে বলতো দাঁড়াও আগে প্রডিউসার খুঁজি তারপরে ডাকছি, বুঝলাম প্রডিউসার কে গিয়েই শোনাই, এস এস জি প্রোডাকশনের সুমন সেনগুপ্ত আমার মতন একটা সাধারণ ছেলের গল্প শুনে প্রায় ২ কোটি টাকার একটা সিনেমা বানাবে ঠিক করেন আর সেটাই ম্যাজিক হয়ে যায় আমার লাইফের, সিনেমার নামও ম্যাজিক একইসাথে জিৎ দা আমাকে সুযোগ দেয় বাজি লেখার। তারপরে রাস্তা একটু হলেও স্মুদ হয়।


১৫) আপনার নাম অর্ণব অর্থাৎ সমুদ্র, আপনার লেখাটাও কি ঠিক তেমনই সুদূরপ্রসারি এবং বহুদূর বিস্তৃত এবং গভীর।

উঃ না না আমি সহজ ভাষায় সহজ গল্প বলতে বিশ্বাসী, পাহাড়ি নদী টদি বলুন শুনতেও ভালো লাগে।


Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *