Sun. May 26th, 2024

“বাংলা ছবিকে বাংলা ছবির দর্শক তৈরি করতে দিতে হবে” : শ্রমন চ্যাটার্জী।

By Desk Team Jul 13, 2021

একটি ছেলে খুব ছোটবেলা থেকে নাটক দেখতে, থিয়েটার দেখতে ভীষণ ভালোবাসতো। নাটক, থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা দেখে তার মা তাকে আসানসোলে ‘দিশারী’ দলের ছোটদের শাখা ‘শৈশব’এ ভর্তি করিয়ে দেন। এরপর সেই ছেলেটি ধীরে ধীরে সেখানে নিয়মিত অভিনয় শিখতে থাকে। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ছেলেটি তার পরিবারের সাথে কলকাতায় চলে আসে। কলকাতায় এসে একটি-দুটি গ্রুপ থিয়েটারের সাথে সে কাজ করা শুরু করে এবং এইভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি হতে থাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট হবার কিছুটা আগে তার মনে এই অভিপ্রায় হয় যে তিনি অভিনয়টাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। সেই ছেলেটি আর কেউ নয় তিনি হলেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘কিয়া এন্ড কসমস’ খ্যাত অভিনেতা শ্রমন চ্যাটার্জী।
‘পূর্ব-পশ্চিম’ থিয়েটার দলের ‘রক্তকরবী’ নাটকটির ‘কিশোর’ চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন।
বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এই তিন ভাষাতেই তিনি থিয়েটার করেছেন। তিনি বর্তমানে মুম্বাইতে থাকেন।

অভিনয়রত শ্রমন চ্যাটার্জী।


থিয়েটারে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন স্টেজে অভিনয় করার সময় প্রত্যেকটা দর্শকের চোখের সঙ্গে একজন অভিনেতার শরীর, তার বচনের সম্পর্ক থাকে। দর্শকের চোখ এবং ক্যামেরার লেন্স এক নয়। থিয়েটারের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা একজন অভিনেতা কে অভিনয়ের ক্রাফটের উন্নতি এবং স্বতঃস্ফূর্ততা বাড়াতে অনেকটা সাহায্য করে। থিয়েটারে অভিনয় করার মধ্যে দিয়ে একজন অভিনেতার কাজ শেখা অনেকটা পরিণত অবস্থায় পৌঁছায়।ভারতবর্ষের বিভিন্ন আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গুলোর মধ্যে অন্যতম। মালায়ালামও একটি আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। যতদিন আমরা এই মাপে ভাবতে থাকবো যে কোনটা আমাদের থেকে এগিয়ে বা পিছিয়ে গেছে ততদিন আমরা পিছিয়ে থাকব। প্রশ্নটা হচ্ছে আমরা আমাদের দর্শক তৈরি করতে পারছি কিনা। শুধুমাত্র ভালো পরিচালক, ভালো অভিনেতা, ভালো লেখক দিয়ে ছবি হয়না ভালো প্রযোজক দরকার কিন্তু প্রযোজকদেরও কিছু বিজনেস মডেল থাকে।
কলকাতায় এমন বেশ কিছু ছবি হয়েছে যেগুলো এক সপ্তাহ চলতে দেওয়া হয়নি। চলচ্চিত্র বা সিনেমার ব্যবসা ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একটি ছবির ভবিষ্যত নির্ভর করে পুরোটাই ডিস্ট্রিবিউশনের উপর। যতক্ষণ না বাংলা ছবির ডিস্ট্রিবিউশনের আমূল পরিবর্তন হবে ততদিন আমরা পিছিয়ে থাকব।
বর্তমানে বাংলা থিয়েটার অনেক আত্মত্যাগ, পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে নিজেদের দর্শক তৈরি করেছে কিন্তু বাংলা ছবিকে যতক্ষণ বাংলা ছবির দর্শক তৈরি করতে দেয়া না হয় ততক্ষণ এই সমস্যা থেকে যাবে। বাংলা ছবিরও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার ছবির মতো নতুন নতুন দর্শক তৈরি করতে হবে।

ভারতবর্ষের বিভিন্ন আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গুলোর মধ্যে অন্যতম। মালায়ালামও একটি আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। যতদিন আমরা এই মাপে ভাবতে থাকবো যে কোনটা আমাদের থেকে এগিয়ে বা পিছিয়ে গেছে ততদিন আমরা পিছিয়ে থাকব। প্রশ্নটা হচ্ছে আমরা আমাদের দর্শক তৈরি করতে পারছি কিনা। শুধুমাত্র ভালো পরিচালক, ভালো অভিনেতা, ভালো লেখক দিয়ে ছবি হয়না ভালো প্রযোজক দরকার কিন্তু প্রযোজকদেরও কিছু বিজনেস মডেল থাকে।

অভিনয়রত শ্রমন চ্যাটার্জী।


কলকাতায় এমন বেশ কিছু ছবি হয়েছে যেগুলো এক সপ্তাহ চলতে দেওয়া হয়নি। চলচ্চিত্র বা সিনেমার ব্যবসা ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। একটি ছবির ভবিষ্যত নির্ভর করে পুরোটাই ডিস্ট্রিবিউশনের উপর। যতক্ষণ না বাংলা ছবির ডিস্ট্রিবিউশনের আমূল পরিবর্তন হবে ততদিন আমরা পিছিয়ে থাকব।
বর্তমানে বাংলা থিয়েটার অনেক আত্মত্যাগ, পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে নিজেদের দর্শক তৈরি করেছে কিন্তু বাংলা ছবিকে যতক্ষণ বাংলা ছবির দর্শক তৈরি করতে দেয়া না হয় ততক্ষণ এই সমস্যা থেকে যাবে। বাংলা ছবিরও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার ছবির মতো নতুন নতুন দর্শক তৈরি করতে হবে।

শুধুমাত্র বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি পাঠিয়ে ছবির রেভেনিউ আসেনা। ভালো ছবি করে সেই কাজ যদিনা রেভিনিউ জেনারেট করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ছবি সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলী এবং পরিচালক কিভাবে ইন্ধন পাবে তারপরের ছবিটি বানাবার জন্য।

অভিনয়রত শ্রমন চ্যাটার্জী।


বর্তমানে বঞ্চনা আর অবন্টনের এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে আমরা অলিখিতভাবে ছবির ভাগ করে দিয়েছি, ছবির গায়েতো লেখা থাকেনা এই ছবি চলচ্চিত্র উৎসবে চলবে আর এই ছবি সাধারণ মানুষ দেখবে। চলচ্চিত্র উৎসবে যে সমস্ত ছবিগুলো দেখানো হয়, সেই ছবিগুলি সাধারণ মানুষই দেখে। তবে প্রকারান্তরে দেশ এবং ভাষার বদল হতেই পারে। ছবিগুলো তো আসলেই সাধারন মানুষই দেখে, মানুষের তো আর ছবি দেখার কোন বিভাজন হয় না।

তবে কলকাতার কিছু মিডিয়াও যদি এই দায়িত্বটা নেন যে একজন ফিল্ম মেকার একটি ছবি বানিয়েছেন, সেটা যেন তিনি তাদেরকে দেখাতে পারেন। তাদের এই কাজ প্রথমসারির মিডিয়ার মানুষজন যদি একটু প্রচার-প্রসারের আলোয় নিয়ে আসেন তাহলে তাদেরও পথ কিছুটা মসৃণ হয়। মিডিয়া যদি একটা স্বতস্ফূর্ত এবং সার্বভৌম জায়গা তৈরি করেন যেখানে তারা কোন রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হবেন না, মিডিয়া যদি সচেতন এবং সার্বভৌম হয়ে কাজ করেন এবং বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন তাহলে বাংলার চালচিত্রে বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের অবস্থার অনেকটা উন্নতি হবে।

অভিনয়রত শ্রমন চ্যাটার্জী।


তার প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আড্ডা টাইমসের ওয়েব সিরিজ ‘ফ্ল্যাট মেট’ এ তিনি অভিনয় করছেন। সেখানে তার চরিত্রটি একটি স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানের। এছাড়াও স্বর্গত কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অপর কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত এবং শৈবাল মিত্র পরিচালিত ‘এ হোলি কন্সপিরেসি’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।
বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট নিয়ে প্রাথমিক স্তরে আলোচনা চলছে, তবে অতিমারির কারণে এখনো ফাইনাল হয়নি।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *