Wed. Apr 24th, 2024

‘দ্বিখণ্ডিত’ রিভিউ : ধৈর্য্য ধরে অবশ্যই দেখুন, স্কিপ করে দেখবেন না‌।

By Desk Team Aug 13, 2021

মুক্তি পেয়েছে চরকি ওয়েব ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ‘ঊনলৌকিক’ অ্যান্থোলজি সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ গল্প ‘দ্বিখণ্ডিত’
দ্বিখন্ডিত গল্পে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার। ইন্তেখাব দিনার এখানে মোস্তাক আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মোস্তাক আহমেদ বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট অফিসারের (চলতি বাংলায় যাদের কেরানি বলা হয়) চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
‘দ্বিখণ্ডিত’ গল্পটি দেখতে গেলে আপনাদের একটু ধৈর্য ধরে হাতে সময় নিয়ে দেখতে হবে। আপনি যদি ভাবেন স্কিপ করে দেখবেন তাহলে আপনার কাছে এই গল্পটি পরিশেষে অর্থহীন হয়ে থাকবে।
শুরুতেই বলে রাখি বিখ্যাত হলিউডি চিত্রপরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালনায় ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দ্য প্রেস্টিজ’ এর সঙ্গে তুলনা করতে যাবেন না। অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধারা রয়েছেন যারা সবকিছুতেই কপির সন্ধান করেন তাদের অবগতির জন্য কথাটা বলে রাখলাম।
এবার ফিরে আসি গল্পের বিষয়ে। মোস্তাক আহমেদ নামে এক সরকারি কর্মচারীর গল্প। সে বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় ফাস্ট অফিসারের পদে কাজ করে। সে থানার একজন দায়িত্বপূর্ণ অফিসারের কাছে এসে বেশ কয়েকটি গল্প শোনায়। এই গল্পে খুব স্লো ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে তাই জন্য আপনাদেরকে শুরুতেই বলেছিলাম ধৈর্য ধরে এই গল্পটা দেখতে হবে। মুস্তাক আহমেদ ওই দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার কে কেন এই গল্পগুলো শোনাচ্ছিলেন তা গল্পের শেষ পাঁচ মিনিটেই আপনারা অনুভব করতে পারবেন। এই গল্পটি আপনারা যদি ধরে থাকেন শেষ পর্যন্ত আপনাদের মূল্যবান সময় সার্থক হবে এইটুকু বলতে পারি।
গল্পের শুরুতেই মোস্তাক আহমেদ এর পিছন থেকে ক্যামেরার শটটি নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল পরিচালক এবং চিত্রগ্রাহক যেভাবে গল্পটিকে বিল্ডআপ করেছেন সত্যিই যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এই গল্পে চিত্রগ্রাহক এবং পরিচালকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই গল্পটি দেখলেই আপনি সে কথা বুঝতে পারবেন। একটি দৃশ্যে মোস্তাক আহমেদ যখন কথা বলছেন তার প্রতি ছায়া তার সামনে থাকা টেবিলটির মধ্যে ধরা দিয়েছে এবং সেটিকে খুব সুন্দর ভাবে লেন্স বন্দী করেছেন সুমন সরকার। এই শর্টটির পিছনে থাকা দৃষ্টিভঙ্গি পরিচালকের উৎকর্ষতাকে আমাদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে ব্যক্ত করছে।
প্রত্যেকটি গল্পে পরিচালক রবিউল আলম রবি যে ধরনের ভিজুয়াল ট্রিটমেন্ট দেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রত্যেকটি গল্প তাঁর হাতের ছোঁয়ায় অন্য এক মাত্রা পেয়েছে। ‘ঊনলৌকিক’ অ্যান্থলজি সিরিজের প্রত্যেকটি গল্প তিনি অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। গল্পটিতে তিনি অত্যন্ত সরলতার সাথে অনেক কঠিন জিনিসকে সহজভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কঠিন বার্তাকে সহজভাবে উপস্থাপিত করেন।
এই গল্পটি শিবব্রত বর্মন এর একটি গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
এই গল্পটির চিত্রগ্রহণে দায়িত্ব সামলেছেন সুমন সরকার। উনি দক্ষতার সঙ্গে যেভাবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রত্যেকটি দৃশ্যকে লেন্স বন্দী করেছেন তার দর্শকেরা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে যাবেন।
রাশিদ শরীফ শোয়েবের আবহসংগীত এই গল্পটিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। এই গল্পটির আবহসংগীত চিত্রনাট্য এবং দৃশ্যায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে এবং যার ফলে দৃশ্য এবং আবহসংগীত আপনাকে সেই অনুভূতি গুলি প্রদান করবে যেগুলি আপনারা এই ধরনের ছবিতে খুঁজে থাকেন কিন্তু পাননা।
এই ছবিটি ‘এ ফিল্ম সিন্ডিকেট প্রোডাকশন’ কর্তৃক প্রযোজিত। এই গল্পটির প্রযোজনা করেছেন সালেহ সোবহান অনীম। নির্বাহী প্রযোজক মীর মোকাররম হোসেন, তানিম নূর এবং রুমেল চৌধুরী
সবশেষে এটুকুই বলতে পারব স্বল্প বাজেটে নিজেদের উৎকর্ষতা ও দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে সুন্দর একটা উপস্থাপনা রবিউল আলম রবি এবং তার পুরো টিম যে নিপুণতার সাথে করে দেখিয়েছে তা সমগ্র পরিচালক তথা কলাকুশলীদের কাছে একটি শিক্ষণীয় বিষয়ও বটে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *