Wed. Apr 24th, 2024

আদেও কী অশ্লীলতা নাকি অনুভূতির প্রকাশ, কী বলছে ইসমাত ছুগতাই এর লিহাফ

By Desk Team Aug 2, 2021

Voot Film Fest এ চলেছে সিনেমার মেলা। যেখানে একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত সিনেমাকে দেখানো হয়েছে। গত ২৪শে জুলাই থেকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত চলেছে এই উৎসব। গত ৩১শে জুলাই মুক্তি পায় “লিহাফ”। সিনেমার পরিচালক রাহাত কাজমী। প্রখ্যাত উর্দু লেখিকা ইসমাত ছুগতাই এর সবথেকে অন্যতম লেখা ‘লিহাফ’ নিয়েই এই গল্প। গল্পটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত পেয়েছিল। এবং পরে সেটিকে ঘিরে পাকিস্তানের লাহোর এ রীতিমত কোর্ট মামলা হয়। আর সেই কোর্টে কী হয়, সেটা থাকছে গল্পের শেষ প্রশ্ন।

লিহাফ একটি পিরিয়ড ড্রামা সিনেমা। যে গল্পে বেগম যান এবং তার মালিশ ওয়ালীর সম লিঙ্গের যৌন সম্পর্ককে তুলে ধরে। আর এই কাহিনী লিখেছিলেন বেগম যান এর ছোট্ট আত্মীয়া ইসমাত ছুগতাই অর্থাৎ গল্পের লেখিকা। তবে এই কাহিনীকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করে লাহোর কোর্ট ইসমাত ছুগতাই কে সমন পাঠায়। আর সেখানেই তিনি এই কাহিনীকে আরও একবার সবার কাছে ব্যক্ত করেন। কাহিনীতে দেখানো হয়েছে সেই সময়ের পরিস্থিতি। তখন কোনো মেয়ের ফ্রীডম অফ স্পিচ বলতে ছিল শূন্য। তাই কেউ গতানুগতিক বাঁধা ধরার বাইরে গেলেই উঠত নানান প্রশ্ন। এই সিনেমা দর্শকদের দেড় কাছে তুলে ধরে নানা প্রশ্ন আর সাথেই তুলে ধরে বেগম যান এর আবেগ, তাঁর কষ্ট। ফুটে ওঠে ছোট্ট ইসমাত এবং বড় ইসমাতের উপলব্ধি। ছোট বেলায় তার বেগম জনের প্রতি তার অনুভূতি যা থাকে তা ছিল ভয়ের আর বড় হয়েই তা তৈরী হয়ে কষ্টের, করুনার। সব কিছু মিলিয়েই এই গল্প।

গল্পে বেগম জান এখন খুব সুন্দরী মহিলা, যাঁর বিয়ে হয় নওয়াব সাহেব এর সাথে। কিন্তু তাঁর বৈবাহিক জীবন শুধু না তার গোটা জীবনটি বদ্ধ হয়ে গেছিল চার দেওয়ালের মাঝে। আর সেই সময়েই প্রবেশ হয় রাব্বো অর্থাৎ তার মালিশওয়ালীর। এদের দুজনের সম্পর্ককে নিয়েই গল্প রচনা করেছিলেন ইসমাত, অবশ্য তিনিও ছিলেন এই গল্পেরই এক অংশ।

সিনেমায় প্রত্যেকটি চরিত্রই নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়বেন। কখনও এখানে বেগম জানের প্রতি ভালোবাসা আসবে, তাকে দেখে কষ্ট আসবে আবার মাঝে তাকে স্বার্থপরও লাগবে। রাব্বোকে দেখে মনে হবে সে যেন অচিরেই একজনের ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠেছেন, খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে আবার ভুল করলে ধরিয়েও দিতে পারে। ছোট্ট ইসমাতকে দেখে তার ভয় দেখে তার জন্যে কখনও মন কেঁদে উঠবে আবার বড় ইসমাতকে দেখে মনে হবে কী সাহসী একজন মহিলা। আবার সেখানেই নাওয়াব সাহেব দেখলে রাগের প্রকাশ পাবে। আবার মান্টো চরিত্রটি দেবে আনন্দের এবং ইতিবাচক ভাব।

বেগম জান একে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সোনালী সেহগাল, রাব্বোর চরিত্রে নমিতা লাল, ছোট্ট ইসমাত এর চরিত্রে অনুষ্কা সেন, বড় ইসমাত এর চরিত্রে তনিষ্ঠা চ্যাটার্জী, শাহিদ এর চরিত্রে খোদ পরিচালক রাহাত কাজমী, নওয়াব এর চরিত্রে মীর সওয়ার, মান্টো এর চরিত্রে শোয়েব শাহ।

এই কাহিনীর লেখিকা ইসমাত ছুগতাই পরিচিত ছিলেন তার সাহসী ব্যক্তিত্বের জন্যে। তাঁর গল্পে ছেলে বা মহিলাকে আলাদা করে কখনই দেখতেন না। বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেন তিনি। ইসমাত ছুগতাই বলতেন, তিনি যা দেখেন, শোনেন তাই তাঁর কলমে লেখেন। তিনি উর্দু সাহিত্যের খুব বিখ্যাত লেখিকা ছিলেন। ১৯৭৬ সালে ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তাই এমন একটি লেখিকার এমন অবিচ্ছিন্ন লেখা গল্প দেখতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে “লিহাফ “।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *