Tue. Jun 18th, 2024

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ‘মায়া’, আসছে খুব শীঘ্রই…

By Desk Team Aug 10, 2021

‘মায়া’ এই শব্দটির মানে তো অনেক কিছুই হয়, তবে এই শব্দকে কে বা এই নামটিকে একটি জোরালো প্রভাব দিতেই খুব শীঘ্রহি রুপোলি পর্দায় আসতে চলেছে, পরিচালক রাজর্ষি দে’র নতুন ছবি “মায়া”। এই কাহিনীর শুরু ১৯৮৯ থেকে এবং তা গিয়ে শেষ হয় আজকের দিনে অর্থাৎ ২০২১ সালে। একজন নারী ধর্ষিতা হওয়ার পর সে কিভাবে ঘুরে উঠে দাঁড়ায়, কিভাবে সোশ্যালি, পলিটিক্যালি ক্ষমতা নিজের হাতে নেয় তারই গল্প। সিনেমাতে মাহিরা থেকে মায়া হয়ে ওঠার গল্পকেই দেখানো হবে। এবং অন্য নারীদেরকে কিভাবে অনুপ্রাণিত করে ময় তা দেখা যাবে। সিনেমাটি পরিচালক উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর ম্যাকব্যাথ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই করছেন। তবে পরিচালক জানিয়েছেন, দর্শক যদি ভাবেন যে ম্যাকবেথ এর কাহিনীকেই পুনরায় পর্দায় দেখতে পাবেন তাহলে সেক্ষেত্রে কিন্তু তাঁরা একটু আশাহত হবেন, কারন এটা ম্যাকবেথ এর রিকন্সট্রাকচার। এছাড়া এই সিনেমাতে একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে থাকছেন, ওপর বাংলার অভিনেত্রী রাফিয়াত রাশিদ মিথিলা। এই সিনেমার মাধ্যম দিয়েই তিনি এপার বাংলার প্রথম সিনেমা করতে চলেছেন।

তাই এমন একটি ইন্টারেস্টিং গল্প নিয়ে করতে আমরা ফোনের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যাই পরিচালক রাজর্ষি দে’র কাছে। রাজর্ষি দা জানান, “ম্যাকবেথ এর গল্পটি আমাকে অনেক পূর্বেই হিট করেছিল। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটি আমার পড়ার সাবজেক্ট ও ছিল। সেইভাবে আকর্ষণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর তো হিন্দিতেও সিনেমা হয় আর তারপরেই এই বিষয়ে আমি বাংলায় একটা সিনেমা বানাতে উদ্যত হই। বর্তমানে এটি কিন্তু খুব ডার্ক টাইম। যার আমার মনে হয় বর্তমান সমাজের কথা মাথায় রেখে এই সিনেমাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দেবে। রাজনৈতিকভাবে হোক কিংবা সামাজিকভাবে এটা একটা আদর্শ সময় বলে আমি মনে করছি।”

সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে খানিক জানতে চাওয়া হলে, পরিচালক জানান, “১৯৮৯ এর কলকাতা থেকে মাহিরার যাত্রা শুরু, সেখানে তাকে গ্যাং রেপ করা হয়, এবং তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে ধরে নেওয়া হয় যে সে মারা গেছে। কিন্তু সেই মাহিরাই আবার ঘুরে ওঠে, ফিরে আসে মাহিরা রূপে। সে ফিরে এসে পলিটিক্যাল স্ট্রাকচার তৈরী করে। এখন প্রশ্ন মায়া কার বা কাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়ে মায়ার রূপে আসে ? এছাড়া রয়েছে আরও অনেক চমক।”

এপার বাংলায় মিথিলার এটি প্রথম সিনেমা, তাঁর সাথে কাজ করে রাজর্ষি দা’র অভিজ্ঞতা কেমন তা জানতে গেলে, জানা যায় যে, “সেই অভিজ্ঞতা খুব ভালো। বর্তমানে তো মিথিলা আমার খুব ভালো বন্ধ্যা হয়ে উঠেছে। আর সত্যি বলতে আমি অনেকদিন পর এমন ডেডিকেটেড একটা অভিনেত্রী দেখলাম। যে শুধু নিজের সংলাপ টুকুই নয়, বরং বাকি সবার সংলাপও মনে রাখতো। যেদিন শ্যুটিং থাকতো না সেদিন ও অন্যদের শ্যুটিং দেখার জন্যেও ফ্লোরে তিনি উপস্থিত হয়ে পড়তেন। এখানে তাঁর মায়া চরিত্রটি খুবই পাওয়ারফুল এবং কঠিন বলতেই হয়, আর সেটা মিথিলা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এক কোথায় যদি বলতে হয়, তাহলে বলবো যে She is wonderful to work with. এছাড়া আমি আমরা দুটো আগামী প্রজেক্ট এর জন্যে মিথিলাকে ভেবে রেখেছি, এবং সেই বিষয়ে অল্প বিস্তর কথাও এগিয়ে রেখেছি।”

সিনেমাতে আরও একটি চমক রয়েছেন, তিনি হলেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। তবে তিনি এখানে অভিনেতার ভূমিকাতে রয়েছেন। তাঁর চরিত্রে বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক আমাদেরকে বলেন, “কমল দা আমার সিনিয়র কলিগ হলেও সবসময় কিন্তু একসাথে থাকেন। ওনার সাথে এটা আমার চতুর্থ কাজ। এখানে ওনার চরিত্রের নাম, দরবার শর্মা। আর আমি বলবো দর্শক কিন্তু আগে কখনও ওনাকে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেননি। ওনার চরিত্রটা খুবই খারাপ একটি মানুষের। উনি বাস্তবে মানুষটি ঠিক যতটা ভালো, সিনেমাতে ওনার চরিত্র ঠিক ততটা বরং বলা ভালো তার থেকেও বেশি খারাপ। আর একটা জিনিস যেটা বলা খুব জরুরি তা হল আমাদের টলিউডে কমলেশ্বর দা’কে অভিনেতা হিসাবে কিন্তু সেইভাবে এক্সপ্লোর করা হয়নি। আর আমি বলবো উনি যেমন পরিচালক হিসাবে প্রথম শ্রেণীর ঠিক সেভাবে তিনি অসাধারন একজন অভিনেতাও বটে।”

এই সিনেমাতে মোট ১৯ জন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে একসাথে নিয়েই কাজ করা হয়েছে। এবং পরিচালক জানান একদিনের জন্যেও কোনো অসুবিধা হয়নি। তাঁরা নিজেরাই সব তুখোড় অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাই একসাথে কাজ করতে গিয়ে কোনো রকম সমস্যা শুটিং ফ্লোরে হয়নি। এছাড়া তিনি জানান যে পূর্বেও তার এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে তাই এটা এখন অভ্যেসে তো পরিণত হয়েইছে সাথে একসাথে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করা আমার একটা ইচ্ছার জায়গা তৈরী করেছে। তিনি আরও জানান যে অনেকদিন পর কোনো সিনেমা বাঙালি কেউ প্রযোজক, প্রযোজনা করছেন। বাংলা সিনেমায় আগে বহু বাঙালি প্রযোজকরা প্রযোজনা করতেন কিন্তু বিগত প্রায় কয়েক বছর ধরে অবাঙালি প্রযোজকদের ভিড় বেশি তবে আবারও অনেক বছর পর বাঙালি প্রযোজক এই সিনেমাকে প্রযোজনা করছেন। এই ছবিটির প্রযোজনা করেছেন দেবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সাহেল রোহিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া রোহিত এই সিনেমাতেও একটি ভূমিকাতে অভিনয় করবেন।

এর সাথেই পরিচালক আরও জানান এই সিনেমাটি অবশ্যই তাঁরা হলে অর্থাৎ বড়পর্দায় প্রকাশ করতে চান। এবং খুব সম্ভবত হয়ত সিনেমাটি এই বছরের শেষে, শীতের মরশুমেই দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

পরিচালক রাজর্ষি দে’কে তাঁর আগামী প্রজেক্ট কী কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সামনেই একটা ওয়েব সিরিজ করার কথা আছে এবং একটি সিনেমা করার কথা আছে, আমি কখনও ট্রেন নিয়ে গল্প বলিনি। তাই এবারে ট্রেন নিয়ে কিছু গল্প বলতে চাই এই সিনেমাতে। তাঁর প্ল্যান ও চলছে। সুতরাং বলা যেতে পারে, এই বছরের শেষে যেমন মরশুমের উপহার হিসাবে “মায়া” আসতে চলেছে ঠিক তেমনই আরও অনেক সুন্দর সুন্দর সিনেমা ও সিরিজ আসতে চলেছে পরিচালক রাজর্ষি দে’র তরফ থেকে দর্শকদের জন্যে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *